কাহালুর গুরুত্বপূর্ণ রাস্তার বেহাল দশা

প্রধান খবর বগুড়ার সংবাদ

নবদিন ডেস্ক:
বগুড়ার কাহালু উপজেলার অধিকাংশ গুরুত্বপূর্ণ রাস্তাগুলোর বেহাল দশা। সরেজমিনে দেখা যায়, এ এলাকার বেশিরভাগ রাস্তারই কার্পেটিং উঠে গেছে, পাশাপাশি বৃষ্টিপাতের কারণে বিশাল বিশাল গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। ফলে যানবাহন চলাচলের অযোগ্য হয়ে পড়েছে এলাকার রাস্তাগুলো। যারফলে, সীমাহীন দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে এলাকার যাত্রী সাধারণকে।

অপরদিকে, যানবাহন চলাচলের অযোগ্য এসব রাস্তায় জীবিকার তাগিদে ঝুঁকি নিয়েই নিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে জনসাধারণকে। যারফলে রাস্তাগুলোতে প্রতিনিয়ত সড়ক দুর্ঘটনার পাশাপাশি বিকল হচ্ছে এ রাস্তায় চলাচলরত যানবাহনগুলো। তাছাড়া, রাস্তার দুইপাশে অপরিকল্পিতভাবে স্থাপনা গড়ে উঠায় একটু বৃষ্টি হলেই পানি উঠে আসে রাস্তায়। এঅবস্থায় রাস্তায় সৃষ্টি হওয়া গর্ত অনুমান করতে পারেন না যানবাহন চালকরা এরফলে তারা দূর্ঘটনায় পড়ে। সড়কগুলোতে মানুষের বিড়ম্বনা আর ভোগান্তির যেন কোন শেষ নেই। ভোগান্তি ছাড়াও পরিবহন ব্যয় দিগুণ হওয়ার সাথে সাথে বাড়ছে জীবনের ঝুঁকিও। ভোগান্তিতে পড়া জনসাধারণ প্রতিনিয়ত তাদের ক্ষোভের কথা শোনায় ।

এ রাস্তায় চলাচলকারী ট্রাক চালক রবিউল ইসলাম জানান, রাস্তার বেশীরভাগ জায়গাতেই সৃষ্টি হয়েছে বিশাল বিশাল গর্ত। তাছাড়াও আবার বৃষ্টির সময় পানি দিয়ে গর্তগুলো ভরে থাকায় গাড়ী গর্তে আটকে যায় কখনো কখনো উল্টে যায়। জীবন জীবীকার তাগিদেই এ পথ নিয়মিত ঝুঁকি নিয়ে গাড়ি চালাচ্ছি আমরা।

জানতে চাইলে কাহালু উপজেলা মোটর শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক মেহেদী হাসান মন্ডল বলেন, ২ বছরের কাছাকাছি সময় ধরে কাহালু টু বগুড়া রাস্তা ভেঙ্গে আছে। যাতে করে আমাদের পক্ষে সিএনজি চালানো প্রায় অসম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছে। রাস্তার এ অবস্থায় ১৫/২০ মিনিটের রাস্তায় পার হতে আমাদের ব্যয় হচ্ছে ৪৫ মিনিট।

এ সড়কে চলাচলকারী চালক ও যাত্রীরাসাধারণের দাবী, আমরা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে এ সড়কে চলছি। প্রতিনিয়ত শঙ্কায় থাকি না জানি কখন কি দুর্ঘটনা ঘটে যায়! আমাদের দুর্ভোগের মাথায় রেখে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা রাস্তা মেরামত করে দিবে বলে আমরা আশা রাখছি।

এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে কাহালু উপজেলা প্রকৌশলী আহসান হাবিব বলেন, রাণীরহাট টু দেওগ্রাম সড়ক এবং বারমাইল টু নামুজা সড়কের ইতোমধ্যে টেন্ডার হয়ে গেছে। অতিদ্রুত এই রাস্তা দুইটির কাজ শুরু হবে। তাছাড়া বাঁকি সড়কগুলোর কাজও আগামী অর্থবছরে করে দেওয়া হবে।

বগুড়া জেলা সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ আশরাফুজ্জামান বলেন, বগুড়া তিনমাথা ভায়া কাহাল টু -দরগাহাট রাস্তার জন্য চাওয়া বরাদ্দ অনুমোদনের পথে আছে।

এ প্রসঙ্গে কাহালু উপজেলা চেয়ারম্যান আল হাসিবুল হাসান সুরুজ বলেন, এলজিইডি এবং সড়ক ও জনপথ বিভাগের কর্মকর্তাদের সাথে এই রাস্তাগুলোর বিষয়ে আমার কথা হয়েছে। টেন্ডার না হওয়া সড়কগুলোর সংস্কারের জন্য তারা প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিবে বলে আমাকে আশস্ত করেছেন তারা।

বগুড়া-৪ (কাহালু-নন্দীগ্রাম) আসনের এমপি আলহাজ মোশারফ হোসেন জানান, সড়কগুলোর ব্যাপারে ইতিমধ্যেই তিনি প্রধান নির্বাহী প্রকৌশলীর সাথে আলাপ করেছেন। একটি প্রতিনিধি দল খুব শিগগিরই সড়কগুলো পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *