বগুড়ার শেরপুরে ৬ যুগের ভোগ দখলীয় সম্পত্তি বেদখলের চেষ্টা

প্রধান খবর বগুড়ার সংবাদ

আবু বকর সিদ্দিক,শেরপুর(বগুড়া)প্রতিনিধি:
প্রায় ৬যুগ আগে কোবলা দলিলমুলে ক্রয়কৃত ও ভোগদখলীয় সম্পত্তি জোরপূর্বক বেদখল করার চেষ্টা করছে প্রতিপক্ষ আলহাজ আলা উদ্দিন। এ ঘটনাটি ঘটেছে ঢাকা-বগুড়া সমাসড়কের শেরপুর উপজেলার ছোনকাবাজার এলাকায়। দখল রাখতে ও বেদখল নিতে দফায় দফায় মারপিটের ঘটনাও ঘটছে। এনিয়ে উভয়পক্ষের মধ্যে যেকোন সময় রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের আশংকা বিরাজ করছে এলাকাবাসি।

সরেজমিনে জানা গেছে, উপজেলার ভবানীপুর ইউনিয়নের ছোনকা বাজার এলাকায় ঢাকা-বগুড়া মহাসড়ক সংলগ্ন পূর্বধারে প্রায় ৩০ শতক সম্পত্তি পৈত্ত্বিক সুত্রে ভোগদখল করে আসছে ছোনকা গ্রামের মৃত আয়েজ উদ্দিনের ছেলে মোসলেম উদ্দিন খান। ছোনকা মৌজার জেএলনং ১৮২, খতিয়ান-১৩৯, ৩৮ দাগের ৩০ শতক জমি পিতা মৃত আয়েজ উদ্দিনের মৃত্যুর পর থেকে ৬২ সালের এমআরআর মুলে প্রাপ্ত হয়ে মোসলেম উদ্দিন খান হাল রেকর্ডমুলে দাবীদার হয়ে দীর্ঘ প্রায় ৬০ বছর ধরে ভোগদখল করে আসছে। চলতি বছরে ঢাকা-বগুড়া মহাসড়কের উন্নয়ন কাজে ওই সম্পত্তির ১০ শতাংশ অধিগ্রহন হয় এবং অধিগ্রহনের অনুকুলে যাবতীয় কাগজপত্র মোসলেম উদ্দিনের নামেই তৈরী হয়। কিন্তু অধিগ্রহনকৃত সম্পত্তি নিজেদের দাবী করে প্রতিপক্ষ একই এলাকার জনৈক আলাউদ্দিন হাজী অন্যপক্ষকে অংশিদার সাজিয়ে জমির দলিল সৃষ্টি করে বেদখল দেয়ার পায়তারা করে আসছে।

এরই অংশ হিসেবে আলাউদ্দিন হাজি ও তার লোকজন গত ১১ সেপ্টেম্বর সকালে ওই জমির উপরে প্রাচীর নির্মাণ করতে গেলে প্রকৃত মালিকপক্ষ মোসলেম উদ্দিনের লোকজন বাধা দেয়। এতে উভয়পক্ষের মধ্যে ওই জমির দখল-বেদখল নিয়ে হাতাহাতি ও মারধরের ঘটনা ঘটে। এসময় আলাউদ্দিন হাজির পক্ষে জাহাঙ্গীর, জুয়েলসহ তার মিল চাতালের শ্রমিকেরা মারধর করে। এতে মোসলেম উদ্দিনের মেয়ে মদিনা খাতুন, শাহীনের স্ত্রী আরজিনা, বাকী মিয়ার স্ত্রী অজুবা খাতুন, আব্দুল কাইয়ুমের স্ত্রী খুশী বেগমসহ কয়েকজন আহত হন। তবে এ বিরোধপূর্ণ জমি নিয়ে উভয় পক্ষের মধ্যে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে।

এ বিয়য়ে ওই জমির প্রকৃত মালিক ভূক্তভোগী মোসলেম উদ্দিন খান বলেন, পিতা আয়েজ উদ্দিনের কেনা সম্পত্তি আমি পৈত্বিক সুত্রে প্রাপ্ত হয়ে প্রায় ৬০ বছর পূর্বে থেকে ভোগদখল করে আসছি । বর্তমান সময়ে ওই সম্পত্তি ঢাকা-বগুড়া মহাসড়কের উন্নয়ন কাজে অধিগ্রহন হওয়ায় প্রভাবশালী প্রতিপক্ষরা বেদখল দেয়ার চেষ্টা করছে।

এ বিষয়ে শেরপুর থানার অফিসার ইনচার্জ মিজানুর রহমান বলেন, ছোনকা এলাকায় জমি-জমা সংক্রান্ত বিরোধের কোন অভিযোগ পাইনি। তবে অভিযোগ পেলে তদন্তপূর্বক প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *